বান্দরবান থেকে সেন্টমার্টিন ( মো. আশরাফুল আলম )
‘মন
চায় মন চায়, যেখানে চোখ যায়, সেখানে যাব হারিয়ে’- হুমায়ূন আহমেদের
দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার গানের মতো করেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে ৭টি
দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি
অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি
মাসের ২৬ তারিখ রাতে ৭ দিনের উদ্দেশ্যে বাকৃবির হ্যালিপ্যাড থেকে রওয়ানা
দেয় শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষবর্ষের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ ভাগে
ভাগ করে পরিচালনা করা হয় শিক্ষা সফর-২০১৪।
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
মো. আশরাফুল আলম
মো. আশরাফুল আলম
‘মন
চায় মন চায়, যেখানে চোখ যায়, সেখানে যাব হারিয়ে’- হুমায়ূন আহমেদের
দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার গানের মতো করেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে ৭টি
দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি
অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি
মাসের ২৬ তারিখ রাতে ৭ দিনের উদ্দেশ্যে বাকৃবির হ্যালিপ্যাড থেকে রওয়ানা
দেয় শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষবর্ষের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ ভাগে
ভাগ করে পরিচালনা করা হয় শিক্ষা সফর-২০১৪।
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
‘মন
চায় মন চায়, যেখানে চোখ যায়, সেখানে যাব হারিয়ে’- হুমায়ূন আহমেদের
দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার গানের মতো করেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে ৭টি
দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি
অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি
মাসের ২৬ তারিখ রাতে ৭ দিনের উদ্দেশ্যে বাকৃবির হ্যালিপ্যাড থেকে রওয়ানা
দেয় শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষবর্ষের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ ভাগে
ভাগ করে পরিচালনা করা হয় শিক্ষা সফর-২০১৪।
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dpuf
‘মন
চায় মন চায়, যেখানে চোখ যায়, সেখানে যাব হারিয়ে’- হুমায়ূন আহমেদের
দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার গানের মতো করেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে ৭টি
দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি
অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি
মাসের ২৬ তারিখ রাতে ৭ দিনের উদ্দেশ্যে বাকৃবির হ্যালিপ্যাড থেকে রওয়ানা
দেয় শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষবর্ষের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ ভাগে
ভাগ করে পরিচালনা করা হয় শিক্ষা সফর-২০১৪।
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dp
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvlX.dp
‘মন
চায় মন চায়, যেখানে চোখ যায়, সেখানে যাব হারিয়ে’- হুমায়ূন আহমেদের
দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার গানের মতো করেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে ৭টি
দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি
অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকের অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি
মাসের ২৬ তারিখ রাতে ৭ দিনের উদ্দেশ্যে বাকৃবির হ্যালিপ্যাড থেকে রওয়ানা
দেয় শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষবর্ষের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ ভাগে
ভাগ করে পরিচালনা করা হয় শিক্ষা সফর-২০১৪।
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvl
বাকৃবির প্রতিটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শিক্ষা সফরের ওই ৭ দিনের জন্য। আর তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করে।
হঠাৎ করেই চলে আসে সেই কাক্সিক্ষত দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই শুরু হয় বাস যাত্রা। একের পর এক বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমাদের বাস ছাড়ে রাত ৮টায়। কুমিল্লা রোড হয়ে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করে দ্রুত গতিতে আর আমাদের আনন্দও চলে সমান তালে। সারারাত চলার পর সকাল ৮টায় আমাদের গাড়ি পৌঁছায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। সেখানে সকালের খাওয়া শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা বান্দরবান পৌঁছাই। সেখানে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা ফিরে যাই বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখান থেকে বিকেলে স্বর্ণ মন্দির ও পরের দিন নীলগিরি, নিলাচল ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে বিকেলেই রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে রাত্রি যাপন করে সকালে কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে আমরা শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে বিকেলে আবার রওয়ানা দেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। রাতেই সব বন্ধুরা মিলে চলে যাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সকল যাত্রার ক্লান্তি যেনো নিমিষেই দূর হয়ে গেলো সমুদ্রের কাছে গিয়ে। রাত ৩টার দিকে সবাই আবার নিজেদের রুমে ফিরে ঘুমিয়ে নেই। সকালে উঠেই সবাই আবার দৌড় জমায় সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে নিজেদের শরীর ভিজিয়ে মনে হলো জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া যেন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে একসাথে পানিতে নামার যে কি মজা তা ওই দিন উপভোগ করলাম। লাবনী পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা আনন্দ করার পর আমরা যার যার মতো করে রুমে ফিরে আসি। দুপুরের খাওয়া শেষ করে আবার পাড়ি জমাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইনানী বিচে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিচে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যের আত্মসমর্পণ খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এরপর গন্তব্যস্থল আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সোমবার সকাল ৯টায় আমাদের জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি জমায়। প্রচ- রোদে আমরা যখন প্রায় অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের মনকে প্রশান্তি প্রদান করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী। দুই রংয়ের পানির ফলে স্বচক্ষেই ধরা পড়ে সাগরের বুকে একমাত্র নদীর মোহনা। আর এর প্রধান আকর্ষণ গাঙচিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা পৌঁছাই আমাদের সেই আকাক্সিক্ষত সেন্টমার্টিনে। মনোমুগ্ধকর ও মনোরম পরিবেশের জন্য এক নিমিষেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেন্টমার্টিন। অসাধারণ এক পরিবেশে নিজেদেরকে আবিষ্কার করতে পেরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে। দুপুরের খাবারটা কোন মতে শেষ করেই পাড়ি জমায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকতে। এখানে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা যাবে না। আর তাই কোন সময় নষ্ট না করেই নেমে পড়ি সমুদ্রের পানিতে।
সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। সময় আর ইচ্ছা পূরণের জন্য ট্রলারে না গিয়ে আমরা ভাড়া করি স্পিড বোট। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাই ছেঁড়া দ্বীপে। প্রবালের মাঝে প্রায় ঘণ্টা ২-এর জন্য হারিয়ে যাই আমরা সবাই। সেখানে গিয়েই গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শুরু হয়ে যায় ফটো সেশন। এর আগে বড়দের মুখে ছেঁড়া দ্বীপের অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু আজ আমি নিজেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ভাবতেই কেমন যেনো বিজয়ের হাসি এসে গেলো আমার মুখে। ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম আর ডাব খাওয়া হবে না, তাই কি হয় ? সবাই মিলে একসাথে ডাব খাওয়া শুরু করি। এ যেনো ডাবের পানি খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল। সবকিছু উপভোগ শেষে আমরা আবার রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটিয়ে বুধবার সকাল ৬টায় রওয়ানা দেই আমাদের চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। -মো. আশরাফুল আলম - See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/03/24/168512.php#sthash.VBfFdvl

Comments